শিক্ষক দিবস
ডা. বশির আহমেদ তুষার
শিক্ষক মানে জ্ঞানের আলো, আঁধার রাতের ভোর,
শিক্ষক মানে পথের দিশা, সত্যের দৃঢ় ঘোর।
শিক্ষক মানে প্রথম লেখা, প্রথম শেখা গান,
তাঁরই হাতে স্বপ্ন পায় যে, জেগে ওঠে প্রাণ।
কলম হাতে স্বপ্ন আঁকেন, গড়েন নতুন কাল,
একটি মানুষ গড়তে গিয়ে গড়েন দেশের ঢাল।
ভুলের পথে থামান যখন, ধরেন সত্য-হাত,
তাঁরই কথায় সাহস জাগে, কেটে যায় রাত।
শেখান তিনি—মাথা নত নয় অন্যায়ের তরে,
সত্য যদি সত্যই হয়, বলো বুকটি ভরে!
শেখান তিনি—জ্ঞানই শক্তি, যুক্তিই হোক মান,
মানুষ যদি মানুষ হয়, সার্থক তার প্রাণ।
শ্রেণিকক্ষের চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ নন তিনি,
তাঁর আদর্শ ছড়িয়ে পড়ে—দিনের পরে দিনই।
একটি শিশুর চোখের মাঝে দেখেন হাজার স্বপ্ন,
তাঁরই হাতে প্রাণ পায় যে ভবিষ্যতের রথ।
তাঁর শেখানো অক্ষরগুলো জীবনজুড়ে রয়,
তাঁর দেখানো সত্যের পথে মানুষ হারায় ক্ষয়।
দেশের যত স্বপ্ন আছে, তাঁরই হাতে বোনা,
তাঁরই গড়া মানুষগুলো দেশ গড়ে অনন্য।
আজকে তাই শিক্ষক দিবস—শ্রদ্ধায় নত শির,
যাঁদের আলোয় পথ চলেছি, তাঁরা চির অমর।
হে শিক্ষক! তোমার ঋণ কি শোধ হবে কোনোদিন?
তোমার দেওয়া জ্ঞানের আলো জ্বলবে চিরদিন।
তুমি আছো বলেই জাগে স্বপ্ন দেখার সাহস,
তুমি আছো বলেই মানুষ জয় করে সব হতাশ।
তাই তো আজকে একসাথে বলি—উচ্চ হোক সেই নাম,
শিক্ষক তুমি জাতির গর্ব—শত কোটি প্রণাম!
তোমার জ্ঞানের দীপ জ্বলুক ঘরে ঘরে আজ,
তোমার আদর্শে গড়ে উঠুক সত্য-সুন্দরের সমাজ।
অন্যায় ভাঙুক, মিথ্যা হারুক, জাগুক বিবেক-প্রাণ,
শিক্ষকেরই জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হোক দেশ-মহান!
শিক্ষক তুমি পথের দিশা,
শিক্ষক তুমি প্রাণ—
তোমার হাতেই গড়ে উঠুক
আগামীর বাংলাদেশ মহান!
শ্রদ্ধা তোমায়—
প্রণাম তোমায়—
হে জ্ঞানের মহান কারিগর!
তোমার আলোয় মানুষ জাগুক,
আলোকিত হোক ঘর!