মো: আঙ্গুর মিয়া, আজমিরীগঞ্জ প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে নিজ ঘরে বাবাকে জবাই করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মাদকাসক্ত ও মানসিকভাবে অসুস্থ ছেলের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে উপজেলার শিবপাশা ইউনিয়নের আঞ্জাবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাহাবুদ্দিন মিয়া (৬০) ওই গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় তাঁর ছেলে ইয়াফিন মিয়া (২১) কে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহাবুদ্দিন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী ছিলেন। ছয় ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে ইয়াফিন চতুর্থ। স্থানীয়দের দাবি, ইয়াফিন প্রায় দুই বছর ধরে মাদকাসক্ত এবং মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।
মঙ্গলবার দুপুরে পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়ির বাইরে থাকার সুযোগে ইয়াফিন তাঁর বাবার শোবার ঘরে প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ পর তাঁর বড় ভাই ঘরে গিয়ে শাহাবুদ্দিনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে আজমিরীগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শাহাবুদ্দিন মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে। পরে অভিযান চালিয়ে শিবপাশা বাজার এলাকা থেকে ইয়াফিনকে আটক করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি ধারালো দা জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শিবপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলিউর রহমান তালুকদার ও সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য জয়নাল মিয়া বলেন, “ইয়াফিন মাদকাসক্ত ছিলেন। তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত বাবাকে দা দিয়ে হত্যা করেছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি।”
আজমিরীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) বিশ্বজিৎ পাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “নিহতের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শাহাবুদ্দিন ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। ইয়াফিন প্রায় দুই বছর ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন বলেও পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অভিযুক্ত ইয়াফিনকে আটক করে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”