সিলেটকে অনেকেই ভালোবেসে ‘দ্বিতীয় লন্ডন’ বলে অভিহিত করেন। এর পেছনে রয়েছে এই অঞ্চলের অসংখ্য প্রবাসীর অবদান, সাফল্য এবং দেশের প্রতি তাদের গভীর ভালোবাসা। তবে; কোনো অঞ্চলের প্রকৃত মর্যাদা কেবল উন্নত স্থাপনা দিয়ে নয়, বরং; সেখানকার মানুষের মহত্ত্ব, উদারতা ও সংস্কৃতিপ্রীতির মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।
আজকের সময়ে, যখন অনেকেই জীবিকার তাগিদে ব্যস্ত, তখনও কিছু মানুষ সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধকে লালন করতে নীরবে কাজ করে চলেছেন। তাঁদের মধ্যে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সিলেটের কৃতী সন্তান ।
কবি ও সংগঠক গল্পকার আন্তর্জাতিক সাহিত্য
অ্যাওায়াড প্রাপ্ত এবং বাংলাদেশ সরকারের
অনুমোদন কৃত সংগঠন প্রতিষ্ঠাতাঃ বাংলা
সাহিত্যে পরিষদ ইউকে শাহ কামাল আহমদ
একজন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
ব্যক্তিগত অর্থায়নে তিনি নিয়মিত সাহিত্যচর্চা ও সাহিত্যিকদের উৎসাহিত করতে যে আন্তরিক উদ্যোগ গ্রহণ করে চলেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত যৌথ কাব্যগ্রন্থে নবীন ও প্রবীণ উভয় প্রজন্মের লেখকদের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে অনেক নতুন লেখক নানা প্রতারণার শিকার হন, সেখানে তিনি কোনো ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্য নয়, বরং; সাহিত্যসেবার মানসিকতা নিয়ে লেখকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
একসময় তাঁর প্রতিষ্ঠিত সাহিত্য সংগঠনের একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সৌভাগ্য আমার হয়েছিলো। সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সেই আয়োজন ছিলো অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, আন্তরিক এবং প্রাণবন্ত। দেশ-বিদেশের অসংখ্য সাহিত্যপ্রেমী ও গুণীজনের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি হয়ে উঠেছিলো এক মিলনমেলায় পরিণত। অতিথিদের প্রতি সম্মান, অংশগ্রহণকারীদের প্রতি আন্তরিকতা এবং পুরো আয়োজনের সৌন্দর্য আজও স্মৃতিতে উজ্জ্বল রয়েছে।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে অংশগ্রহণকারী সাহিত্যিকদের সম্মাননা, ক্রেস্ট, বই ও স্মারক প্রদান করা হয়। আয়োজনের পরিসর ও মান দেখে সহজেই উপলব্ধি করেছিলাম, এটি ছিলো সাহিত্যপ্রেম থেকে উৎসারিত এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। এমন আন্তরিক সম্মাননা আজকাল অর্থ ব্যয় করেও সবসময় পাওয়া যায় না।
শুধু উপস্থিত অতিথিরাই নন, যারা ব্যক্তিগত কারণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি, তাঁদের কাছেও সম্মাননা কুরিয়ারের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিলো। এই মানবিকতা ও দায়বদ্ধতা আয়োজকের মহানুভবতারই পরিচয় বহন করে।
জনাব শাহ কামাল কেবল একজন প্রবাসী নন; তিনি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক নিবেদিতপ্রাণ পৃষ্ঠপোষক। তাঁর মতো মানুষের কারণেই প্রবাসে থেকেও মাতৃভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চর্চা নতুন প্রাণ পায়।
তাঁর প্রতি রইলো আন্তরিক শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও শুভকামনা। মহান আল্লাহ তাঁকে সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং সাহিত্যসেবার এই মহৎ পথচলা আরও সমৃদ্ধ করার তাওফিক দান করুন। তাঁর মতো আলোকিত মানুষের সংখ্যা আমাদের সমাজে আরও বৃদ্ধি পাক এই প্রত্যাশাই রইলো।
লেখক: কবি ও সংগঠক।