বেদনার তিমির অরণ্যে নিয়েছি ঠাঁই,
পুষ্প হয়ে ফুটবে সব অশ্রু–তোমায় যদি পাই।
জীবনের যত ক্লান্ত পথ এসে মিশেছে এই নির্জন প্রহরে,
দুনিয়ার মায়ার আলো নিভে গেলে তোমারই নূরের কথা মনে পড়ে।
হে আমার রব, কত ভুলের ধুলো মেখে তোমার দুয়ারে ফিরতে বাধা নাই,
অপরাধের ভারে নত হয়ে শুধু তোমার ক্ষমাটুকুই চাই।
যে অশ্রু ঝরেছে মানুষের চোখ এড়িয়ে, তুমি তো দেখেছ তার প্রতিটি ফোঁটা;
যে ব্যথা ভাষা পায়নি কোনোদিন, তুমিই তার একমাত্র শ্রোতা।
আমি সুখ চাই না তোমাকে ভুলে থাকার বিনিময়ে,
চাই না পৃথিবীর কোনো আলো তোমার নূর থেকে দূরে যায় নিয়ে ।
আমার অন্ধকারগুলোকে তুমি সিজদার আলোয় ভরে দিও,
আমার পথভ্রষ্ট পা দুটোকে তোমার সরল পথে ফিরিয়ে দিও।
আর যখন এই দেহের সব দরজা একদিন বন্ধ হয়ে যাবে একে একে
তখন যেন তোমার রহমতের দরজা আমার জন্য খোলা থাকে।
বেদনার এই তিমির অরণ্য তখন অরণ্য থাকবে না আর–
তোমার রহমতের একফোঁটা আলোতেই আমার সমস্ত অশ্রু কমল হয়ে ফুটবে আবার।
হে আল্লাহ, শুধু দুনিয়ার নয়–
শেষ পর্যন্ত তোমার করুনা যেন রয়।
আজ আর কোনো কথা নেই, কোনো ভাষা নেই– নীরবতাকেই করেছি আপন।
তোমার অদেখা খাতার সোনার পাতায়, যতনে তুমি দিও আসন।
লক্ষীপুর থেকে।