দশটি মাসের অন্ধকারে
ছিলে তুমি ছায়া,
তোমার রক্তে গড়া মাগো
আমার সকল মায়া।
নিজে কেঁদে মুখে হেসে
রেখেছো যে বাঁচিয়ে,
তোমার দোয়া জীবন জুড়ে
রাখে আমায় জড়িয়ে।
ক্ষুধার কাঁটা বুকে নিয়ে
খাইয়েছো মা ভাতে,
নিজের সুখটা বিলিয়ে দিলে
আমার হাসির সাথে।
জ্বরের রাতে কাঁপতে কাঁপতে
জেগেছো নির্ঘুম,
আমার কষ্ট নিজের বুকে
করেছো তুমি চুম।
পড়ে গেলে পথের মাঝে
ধরেছো দুটি হাত,
তোমার ছোঁয়ায় ভয় পালাতো
অন্ধকারের রাত।
আজও যখন দূরে যাই মা
কাঁপে তোমার প্রাণ,
চোখের জলে ভিজে ওঠে
আঁচল আর উঠান।
যে মা এত কষ্ট করে
গড়লো আমার প্রাণ,
খোদা, তাকে কেড়ো না আর
মৃত্যুর কঠিন দান।
আমার আগে থামুক নিশ্বাস
নিভুক এ জীবন,
তবু যেন মায়ের মুখে
না আসে বিচ্ছেদ ক্ষণ।
মা হারানোর শূন্যতা যে
কত গভীর ব্যথা,
সেই ব্যথাতে ভেঙে যায় মা
হাজার সুখের কথা।
খোদা, আমার মায়ের ছায়া
রেখো মাথার ‘পরে,
মা ছাড়া এই পৃথিবীটা
ডুবে যায় অন্ধকারে।
সহকারী শিক্ষক (বাংলা)
শিরোমনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়,
ফুলতলা, খুলনা।