প্রিয় আম্মু,
আজ তোমাকে লিখছি এমন এক সময়ে, যখন দিনের আলো ধীরে ধীরে নরম হয়ে আসে, পৃথিবী আড়ালে ঢেকে যায়, আর দূরের আকাশে চাঁদ নিঃশব্দে উঁকি দেয়। ঠিক এই সময়টাতেই আমার মনটা অভ্যাসের মতো তোমার দিকে ফিরে যায়। মনে হয়, জীবনের সব জটিল বাক্যের ভেতরে তুমি আমার সবচেয়ে সহজ, সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য শব্দ—যার অর্থ কখনো বদলায় না, যার উপস্থিতি কখনো প্রশ্ন তোলে না।
তুমি ঠিক সেই নীরব ছায়ার মতো, যে রোদে পুড়ে যাওয়া দুপুরে হঠাৎ এসে পাশে দাঁড়ায়। কিছু না বলেও বুঝিয়ে দেয়—এখানে একটু থামা যায়, এখানে মাথা রেখে নিঃশ্বাস নেওয়া যায়। এই চিঠিটা আসলে সেই ছায়ার কাছেই একটু বসে থাকার ছোট্ট চেষ্টা, যেখানে কোনো অভিযোগ নেই, আছে শুধু প্রশান্তি।
আমার প্রতিটা দিন শুরু হয় তোমার ডাকে, আর প্রতিটা রাত শেষ হয় তোমার মুখের দিকে তাকিয়ে। রোজ কত কথা বলি, তবু তোমার সঙ্গে কথা বলার তৃষ্ণা আমার কখনো ফুরোয় না। তুমি, আম্মু, পূর্ণিমার চাঁদের মতো—অন্ধকার রাতেও আলো বিলাতে ভুলো না। সংসারের প্রতিটা সুতো তুমি এমন নিপুণ হাতে বেঁধে রেখেছো, যেন ক্লান্তি কখনো তোমাকে ছুঁতে পারে না। এই সংসারের জন্য তুমি কত কিছু করো, কত ত্যাগ স্বীকার করো—তবু তোমার মুখে আমি কখনো বিরক্তির ভাষা খুঁজে পাই না।
আমাকে পৃথিবীর আলো দেখাতে তুমি যে কত কষ্ট সহ্য করেছো, তার কোনো হিসাব আমি আজও দিতে পারি না। অপরিসীম আদর, স্নেহ আর ভালোবাসায় তুমি আমাকে বড় করে তুলেছো। আমার ছোট ছোট দুষ্টুমি, আনন্দ, কান্না—সবকিছুর নীরব সাক্ষী তুমি। সন্তান হিসেবে তোমার জন্য আমি কখনোই যথেষ্ট কিছু করতে পারিনি—এই অপূর্ণতার বোধটাই হয়তো আমাকে সবচেয়ে বেশি কাঁদায়।
আম্মু, হয়তো আজ পর্যন্ত মুখে বলে উঠতে পারিনি, আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি, তোমার প্রতি কতটা কৃতজ্ঞ। আজ এই চিঠির ভেতর দিয়ে অন্তত এটুকু বলছি—আম্মু, আমি তোমাকে ভীষণ ভালোবাসি। এই ভালোবাসা অনন্ত, হাওয়ার মতো নীরব, কিন্তু সবসময় আমার বুকের ভেতর গভীরভাবে বেঁচে থাকে।
আল্লাহ যেন তোমাকে শত বছর সুস্থ, নেক ও আনন্দময় জীবন দান করেন। আমাকে যেন সেই শক্তি দেন, যার মাধ্যমে তোমার কষ্টগুলো অন্তত একটু হলেও লাঘব করতে পারি। আমার জীবনের যত ভালো কিছু আছে, সবই তোমার প্রতিফলন—আর আমি চাই সেই প্রতিফলন যেন সারাজীবন তোমার কাছেই ফিরে আসে।
ইতি,
তোমার পাগলি মেয়ে
উম্মি হুরায়েরা বিলু