আমার খোকা কলেজ থেকে,ফিরল যখন বাড়ি
দেখল চেয়ে মায়ের হাতে, রঙিন একটা শাড়ি ।
বললো খোকা দাওনা খেতে, ক্ষুধার জ্বালায় মরি
ছাব্বিশে মার্চ বন্ধুরা সবে, রাতের অপেক্ষা করি ।
ক’দিন ধরে কলেজ মাঠে, সকাল বিকাল সবে
গুঞ্জন শোনে পাক বাহিনী, দেশটা দখল হবে।
বিদেশি সব সৈনিক সেনা, আমার মাটির পরে
লুটেরা সব লুটিয়ে নেয়, তাদের দেশের তরে ।
লক্ষ মায়ের সম্ভ্রম যায়, বোনের চোখের পানি
এসব দেখে মাথায় রক্ত ,মায়ের আঁচল টানি ।
বন্ধু মহল সরব হলো , দেশের মাটির টানে,
শপথ নিলো যুদ্ধে যাবার, ভাটির গানের পানে ।
মায়ের পায়ে ছালাম করে, শাড়ির আঁচল ছিঁড়ে
দেশকে রক্ষা করেই তবে, আসব আবার নীড়ে ।
লক্ষ জোয়ান কৃষক মুটে , অস্ত্রের মুখে দাঁড়ায়
শত হাজার বুলেট বুকে, সামনে তবু বাড়ায় ।
ন’য়টি মাসে ছেলের খোঁজে, বাবা মার আহাজারি
বোনের স্বামী সন্তান হারা , করল মুখোশধারী ।
ইজ্জত সম্ভ্রম সম্পদ নিল, দিলো নাতো ফিরায়
অস্ত্রের চালান আরেক দেশে, ব্যাথা হাঁটুর গিরায় ।
লক্ষ শহীদের রক্তে আনলো, দেশের স্বাধীনতা
ছেলেটি এখনো আসেনি ফিরে, মায়ের আকুলতা।
যুদ্ধে যাবার পর হতে মা, আজো ছেলের আশায়
আসবে ফিরে বুকের রত্ন, কেঁদে বুকটা ভাসায়।
ভাই-বোনের চোখের পানি, মায়ের আঁচল খালি,
পাক সেনারা ছাড়লোএদেশ, বুনলো শোকের ডালি।
স্বাধীন দেশ পেলাম মোরা, অনেক রক্তের দানে,
এদেশ মোরা রাখবো ধরে ,” স্বাধীন মাটির টানে “।