বিজয়ের ফুল ফুটেছে কাননে কাননে,
বিজয়ের ফুল ফুটেছে তোমার বাগানে।
দখিন হাওয়ায় বলে যায় কানে কানে,
ওরা এসেছে তোমাকে দেখতে আজ এই শুভদিনে।
আনন্দ ঘন এই বিজয়ের দিনে,
ওরা জানালায় উঁকি দেয় ক্ষণেক্ষণে।
আপন গৃহে ফিরেছ ওরা বিজয়ের দিনে,
আজি এ বিজয় প্রভাতে হাসে রবির সনে।
আলো হয়ে ঝলসে জানালার সীসে,
আনন্দে লুটিয়ে পড়ে গৃহের মেজে।
গান গাও, উল্লাসে জানাও অভিনন্দন,
এসেছে গৃহে ফিরে তোমার আপনজন।
এসেছে বাগানে ফুটে তোমার ভাইবোন।
বীর সৈনিক ছিল তোমার ভাই,
রণাঙ্গনে প্রাণপণে করছিল স্বাধীনতার লড়াই।
এক বিষাদ রাতে বন্দুক হাতে হায়েনার দল এল তাই
এল শাস্তি দিতে, এল প্রাণ নিতে,
এল সম্ভ্রম নিয়ে দানবের মত ফিরে যেতে।
তোমার বাবাকে করেছিল গুলি,
তোমার কিশোরী বোনকে নিয়ে গেল তুলি।
হারালো লাজ ঐ বাগানে, রাতের অন্ধকারে,
কেঁদেছিল সে ঐ বাগানর ধূলোয় লুটিয়ে বারেবারে।
তারপর আপন আঁচল গলায় পরে
কৃষ্ণচূড়ার ডালে চড়ে জয় করল অজানারে।
মাতা ছিলেন না গৃহে, পড়শীর বাড়ি ছিলেন,
কুরুক্ষেত্র দেখে ভেঙে পড়লেন যবে ফিরে এলেন।
তারপর পাগলিনী মাতা করলেন পণ,
তাকেও যেতে হবে রণাঙ্গন।
বুকে বোমা বেঁধে উড়ালেন হানাদার দল,
বুক তার একটুও কাঁপেনি , করেনি টলটল।
তোমায় সঁপে গেলন বৃদ্ধ মাতা-পিতার কোলে।
বড় হলে নানা নানীর কোলে তুমি হেসে খেলে।
ওরা আসে তোমার কাছে বিজয় দিবসে,
ঔ যে এসেছে ওরা আলো আর ফুলের বেশে।
গাঁথো ফুলমালা, সাজাও ডালা, বাজাও ডঙ্কা,
ওরা এসেছে, নাই তাতে কোন শঙ্কা।
বরণ কর তাদের,যারা চলে গেছে মরণের পারে,
তারা আসবে, চিরকাল আসবে, বাংলার দ্বারে।